সবকিছুর মধ্যেই ধর্মকে টেনে আনবেন না তো❞—কথাটা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিত একসময়।



❝সবকিছুর মধ্যেই ধর্মকে টেনে আনবেন না তো❞—কথাটা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিত একসময়।

.
আসলেই তো, সবকিছুর মধ্যেই আচারপার্বণ-সর্বস্ব ধর্মকে টেনে আনব কেন? মাথার ওপর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন আর তিনি সময়ে সময়ে কিছু দূত/ম্যাসেঞ্জার পাঠিয়েছিলেন—আমি তো অস্বীকার করছি না! ধর্মের ব্যাপারটা কি এখানেই শেষ নয়?
.
আমিও বলি সবকিছুর মধ্যে আপনার ধর্মকে আনার দরকার নেই। আপনার একটা নিজের লাইফস্টাইল আছে, কোড অব কন্ডাক্ট আছে এবং আপনি সেভাবেই চলবেন।
.
কিন্তু ফরচুনেইটলি, আমি এমন এক ধর্মের অনুসারী, যেই ধর্মটা আসলে শুধু একটা ‘ধর্ম’ না; বরং পূর্ণাঙ্গ এক জীবনব্যবস্থা; একটা দ্বীন। এমন এক জীবনব্যবস্থা, যেটা একটা মানুষকে এটা পর্যন্ত শিখিয়ে দেয় যে সে কী বলে কোন পা দিয়ে টয়লেটে ঢুকবে, কীভাবে মধ্যকার সময়টা কাটাবে আর কী বলে কোন পা দিয়ে বের হবে।
.
আপনি হাসবেন তো কেন হাসবেন, কাঁদবেন তো কেন কাঁদবেন, কীভাবে হাসবেন, কীভাবে কাঁদবেন না, এগুলো পর্যন্ত বলে দেওয়া আছে।
.
কথা বলবেন তো কেন, কী প্রসঙ্গে কীভাবে কার সাথে কথা বলবেন, চুপ থাকবেন তো কখন, কোন সময়ে কেন চুপ থাকবেন, তাও বলা আছে।
.
ব্যবসা করবেন, চাকরি করবেন? ঠিক কী কী ধরনের ব্যবসা আর চাকরি ঠিক কীভাবে কীভাবে করবেন, তাও বলা আছে। ওজনে কম দেবেন, মিথ্যা কসম কাটবেন, হিসাবের খাতা মেইনটেইন করবেন না, অধীনস্থের সাথে বাজে ব্যবহার করবেন, সুদ আর ঘুষে নিমজ্জিত থাকবেন—ভাববেন না যে, এই ব্যাপারগুলো ছেড়ে কথা বলা হয়েছে।
.
বিয়ে করবেন তো ঠিক, কেন কাকে আর কোন সময়ে বিয়ে করবেন, সেটাও বলা আছে, দুজনকার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো কীভাবে যাবে, কীভাবে যাবে না—সেটাও বলা আছে।
.
দেশ চালাবেন, শাসন করবেন—আলাদা একটা ফরম্যাটই আছে এই নিয়ে।
.
কেউ অপরাধ করেছে? কী কারণে, কে কীভাবে ঠিক কতখানি শাস্তি পাবে, সেটাও বলা আছে; কারা সেটা বাস্তবায়ন করবেন, সেটাও বলা আছে।
.
কোনো মানুষের সাথে কীভাবে ব্যবহার করবেন, কীভাবে ব্যবহার করবেন না—এগুলো যে বলা আছে, সেটা বলাও বাহুল্য।
.
আপনার নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার পরমুহূর্ত পর্যন্তও জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের W/H কোয়েশ্চেনের উত্তর এই জীবনব্যবস্থায় আছে—কী করবেন, কখন করবেন, কী করবেন না, কখন করবেন না।
.
আপনিও যদি আমার মতো এই জীবনব্যবস্থার অনুসারী হয়ে থাকেন, আপনি নিজে আলাদা কোনো ‘লাইফস্টাইল’ আর ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ তৈরি করতে পারবেন না। সত্যি কথা বলতে গেলে, সুযোগ বা দরকার—কোনোটাই নেই। দ্বীনের সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিক আর রুটিনে মাপা; একটা শৃঙ্খলায় আবদ্ধ। আপনার প্রতিটা অ্যাকশানই হবে এই জীবনব্যবস্থার সেট করে দেওয়া; আপনি তখন সেই জীবনব্যবস্থা থেকে আলাদা নন। আপনার উপস্থিতি মানেই সেই দ্বীনের উপস্থিতি। আরও সহজ করে বলতে গেলে, আপনার দ্বীন অনুমোদন করেছে বলেই আপনি কিছু একটা করছেন। আপনার মূল্যবোধের ভিত্তি হবে তখন দ্বীন। সবকিছুর মধ্যেই তখন ‘দ্বীন’ চলে না আসাটা ইললজিকাল।
.
এই দ্বীনের মর্যাদা অন্য যেকোনো জীবনব্যবস্থার চেয়ে বেশি। কারণ, এটা তাঁর দেওয়া একমাত্র জীবনব্যবস্থা, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন; যিনি জানেন আমাদের জন্য কী ভালো আর কী মন্দ। সেভাবেই তিনি সবকিছু সেট করে দিয়েছেন। আর এই জীবনব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ; অসম্পূর্ণতা বা ইমপারফেকশন তার সিফাতের মধ্যে নেই।
.
জি, আমি ইসলামের কথাই বলছিলাম।
আপনি যেই ধর্ম মানছেন, সেই ধর্ম যদি এমন সুশৃঙ্খলিত জীবনব্যবস্থা না হয়, জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের W/H কোয়েশ্চেনগুলোর উত্তর দিতে না পারে, তবে কোনো সুযোগ তো নেই এমন এক ধর্মকে সবকিছুর মধ্যে টেনে আনার!
.
কিন্তু যে দ্বীন আপনার জীবনের সকল সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান দিয়েছে, সেখানে দ্বীনকে আলাদা রাখার কি কোনো সুযোগ আছে?

[ বাতায়ন: মুসলিম মিডিয়া টিম ]
Rahmanblog

Hey there! My name is Abdur Rahman, I am a Professional Web Designer, Graphic Designer. I am Content Creator from Sylhet , Bangladesh. I love coding and editing, so I always try to create something new and interesting.

Post a Comment

Previous Post Next Post