ভালোবাসা দিবস ইসলাম কি বলে?
(দ্বিতীয় অংশ)
প্রথম বিষয় হল, ভ্যালেন্টাইন দিবস নিছকই খ্রিস্টানদের একটা ধর্মীয় দিবস। সরস্বতী পূজার দিবসটাকে যদি কেউ বিশ্ব শিক্ষা দিবস নাম দিয়ে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। সবার ভেতরে এই দিবস উদ্যাপনের ব্যবস্থা করে। অথবা কুরবানির ঈদের দিনটাকে বিশ্ব খাদ্য-উৎসব নাম দিয়ে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। সবাইকে নিয়ে এই দিবসে গরুর গোশত খাওয়ানোর উৎসব করে- এটা যেমন একটা অমার্জনীয় কাজ।
ঠিক তেমনই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে, এই ধর্মীয় দিবসটাকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নাম দিয়ে অন্য ধর্মের মানুষদেরকে কৌশলে এই দিবস পালন করানোর ব্যবস্থা করাটাও একই রকম অমার্জনীয় কাজ। অনেক মানুষই না বুঝে এটা করে ফেলছে। কিন্তু যারা এই বিকৃত অনুবাদটা করে এবং এই প্রচারণাটা করে এই ব্যবস্থা করেছেন, আমরা তাদের কাজের নিন্দা করি, তাদের এই কর্মটাকে ঘৃণা করি।
দ্বিতীয় বিষয় হল যে,
আমরা এই দিবস পালন করলে কী হয়? আমরা তো মুসলমান, নামায-কালাম পড়ছি। যিশুখ্রিস্টের মূর্তিতে একটু সিজদা করলে কী আর এমন হয়! একটু সরস্বতী পূজায় গেলাম, শিক্ষার জন্যই তো! আমরা সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে একটু আনন্দ করে আসলাম, এতে কী সমস্যা?!
এ বিষয়টা আগেই বলেছি যে, একজন মুসলিম অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানের স্বীকৃতি দেবেন, কিন্তু অংশ নেবেন না। অংশ নেওয়াটা ইসলামের পরিভাষায় শিরক বা কুফর। এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কাজেই আপনি যদি শুয়োরের গোশত খান, মদ খান, ব্যভিচার করেন, তাহলে এগুলো যেমন মহা হারাম কাজ। ভ্যালেন্টাইন দিবসের মতো একটা ভিন্ন ধর্মীয় দিবসকে পালন করা এর চেয়েও বড় একটা হারাম কাজ।
এখানে ঈমানের প্রশ্ন। ওগুলো তো হারাম, আপনি জানেন ওগুলো গোনাহ। তাওবা করলে আল্লাহ মাফ করতে পারেন। আর এখানে ঈমানের প্রশ্ন। এটা অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এটা পালন করা মানে হল, আপনি তার ধর্মকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। তার শিরকের স্বীকৃতি দিচ্ছেন, তার অশালীনতাকে আপনি উৎসব হিসেবে মেনে নিচ্ছেন। এজন্য আমি আশা করব, আমরা আমাদের ঈমানগুলোকে উজ্জীবিত করি।
ভালোবাসা দিবস
নামের এই দিবসটা বাস্তবেই মুসলিমদের কোনো দিবস নয়। আমরা অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারি না। যদি কেউ মনে করেন, ‘না! আমি এই ইসলাম ধর্মও মানি, খ্রিস্টান ধর্মও খানিকটা মানি, অল্প মানি, ইসলাম বেশি মানি!’ এটা তার ব্যাপার। কিন্তু আমরা মনে করি, ধর্মের ক্ষেত্রে এ রকম হয় না। বরং একটা ধর্মই মানতে হয়। অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করা যায়। এছাড়া ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের ধর্মীয় আনুভূতিতে আঘাত দেয়া হারাম। কিন্তু অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে আমরা যোগ দিতে পারি না। এটা তো গেল সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন করা আমাদের জন্য বৈধ কি না, এ বিষয়টা।
আমি আশা করব, আমরা অল্প মানুষ যারা মসজিদে বসে কথাগুলো শুনছি। ঈমানের দায়িত্বে, আমার নামায-রোযা ও অন্যান্য বিষয় যেমন ঈমানের অংশ। ঈমানের দাবি, ঠিক তেমনই এই ভিন্ন ধর্মীয় দিবসটা ধর্মের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা। এটার ব্যাপারে সচেতন থাকা, মানুষদেরকে আদবের সাথে বলা, এটাও আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।
‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উৎপত্তি: শিকড়ের সন্ধানে
এরপরে আরেকটা জরুরি বিষয় এখানে আছে। সেটা হল, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স দিবসটা আসলে কী? এটার উৎপত্তিই বা কোথা থেকে? সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ। আপনারা জানেন কি না, আমাদের বাংলা মাসগুলো ইংরেজি মাসের ১৩/১৪ তারিখ থেকেই হয়। আমাদের পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল, পহেলা চৈত্র ১৪ মার্চ, তাহলে ১৪ ফেব্রুয়ারি কী? পহেলা ফাল্গুন। তাহলে আপনারা বুঝতে পারছেন যে, এখানে আরেকটা বিষয় আছে। সেটা হল বসন্ত। উত্তর গোলার্ধে বসন্ত আসে এই সময়, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ফাল্গুনের শুরুতে বসন্ত আসে।
প্রাচীন যুগ থেকে মানুষেরা প্রকৃতি পূজা করত, যখন মানুষ মূর্খ ছিল। প্রকৃতিকেই দেবতা মনে করত। আপনাদের অনেকবার উদাহরণ দিয়েছি। আমাদের দেশেও ছিল। যখন বৃষ্টি না হত, তখন ‘কাদাখেল’ করত, মানুষেরা কাদা মেখে পানি ঢেলে বৃষ্টি প্রার্থনা করত। এটা হল প্রকৃতি পূজার একটা অংশ। মানুষ মনে করত যে, আমরা যখন এ রকম কাদা খেলব। প্রকৃতিও আমাদের জমিকে ভিজিয়ে কাদা করে দেবে।
বিজ্ঞানমনস্কতা বনাম আদিম যুগের চিন্তাকে লালন করা:
বর্তমানে আমরা বিজ্ঞানমনস্কতার অনেক কথাই বলতে শুনি। আমাদের এখানে বিজ্ঞানমনস্কতা মানে, ‘বিজ্ঞান চর্চা বা বিজ্ঞান গবেষণা নয়’, বরং বিজ্ঞানের নামে নাস্তিকতার কথা বলা, ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা।
যারা বিজ্ঞানমনস্কতার নামে ধর্মের বিরোধিতা করেন। এদের অধিকাংশকেই দেখবেন, তারা বিজ্ঞানও বোঝেন না, ধর্মও বোঝেন না। পড়ে কী? দর্শনে, পলিটিক্যাল সাইন্সে, ইসলামের ইতিহাসে অথবা বাংলায়- অধিকাংশ ক্ষেত্রে। তারা বিজ্ঞানমনস্কতার নামে, বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে নাস্তিকতার কথা বলে।
চলবে ইনশাআল্লাহ
সিরিজঃ প্রেমজীবাণু (পর্বঃ ০২)
প্রথম অংশঃ
