ভালোবাসা দিবস ইসলাম কি বলে?
(তৃতীয় অংশ)
আপনারা যদি
ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে যান, সেখানে তেমন কোনো নাস্তিকতা দেখতে পাবেন না, বরং উল্লেখযোগ্য হারে দাড়ি-টুপি পরা ও নামায-রোযা পালন করা মানুষ দেখতে পাবেন। যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে তারা বিজ্ঞান বিষয়ক বইপত্র পড়ে। তারা বিজ্ঞানমনস্ক নয়, তারা বিজ্ঞানী। বিশ্বের যারা বড় বড় বিজ্ঞানী, তারা হয়তো ধর্ম পালন করেন না। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সাধারণত ধর্মবিদ্বেষী নয়, নাস্তিক নয়।
যাই হোক। বিজ্ঞানমনস্কতার নামে আমরা অনেক সময় ধর্মের বিরুদ্ধে বলতে শুনি, নামাযের বিরুদ্ধে। পর্দার বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলতে শুনি, ইত্যাদি। কিন্তু এই বিজ্ঞানমনস্কতার নামে তারা যে একেবারে সেই প্যাগান যুগের মানুষ হচ্ছে, এটা কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না।
লুপারক্যালিয়া উৎসব থেকে ‘সাধু ভ্যালেন্টাইন দিবসে’র উৎপত্তি
মানুষ যখন একেবারেই প্রিমিটিভ (Primitive)((আদিম, সেকেলে ও প্রাচীন)) ছিল, তখন তারা প্রকৃতি পূজা করত। ১৩, ১৪, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ফাল্গুনে উত্তর গোলার্ধে, বিশেষ করে ইউরোপে। এবং আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেও বসন্ত বরণ হত। বসন্তের আগমন, নতুন ফুল ফুটবে, নতুন যৌবন আসবে। তাহলে আমরা যদি বসন্তের শুরুতে গান-বাজনা, ফুর্তি। যৌবনের কাজ করি, তাহলে আমাদের যৌবন এবং ফুর্তি নিটুট থাকবে। প্রকৃতি আমাদের এটা দিয়ে দেবে। এই ধরনের একটা চেতনায় প্যাগান যুগের, প্রিমিটিভ যুগের, প্রাচীন যুগের অসভ্য মানুষেরা এ সময়ে প্রকৃতি পূজা করত।
এ রকম ইউরোপে একটা ছিল,
ফিস্ট অব লুপারক্যালিয়া (feast of lupercalia)।((এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্যানুযায়ী ‘সাধু ভ্যালেন্টাইন দিবসে’র উৎপত্তি ঘটেছে ‘লুপারক্যালিয়া উৎসব’ থেকে। ‘লুপারক্যালিয়া’ উৎসব প্রাচীন রোমানদের একটি উৎসব, যা ফেব্রুয়ারিতে বসন্তের আগমনে পালন করা হত।… Valentine’s Day, holiday (February 14). The holiday has origins in the Roman festival of Lupercalia, held in mid-February. The festival, which celebrated the coming of spring. www.britannica.com/topic/Valentines-Day & www.britannica.com/topic/Lupercalia)) লুপারক্যালিয়া উৎসব। ভারতে ‘বসন্ত বরণ’। পরবর্তীতে এগুলো খ্রিস্টানাইজ্ড করা হয়।
খ্রিস্টধর্মের বিকৃতি: মধ্যযুগীয় বর্বরতার সূচনা
খ্রিস্টধর্মের দুইটা দিক আছে। একদিকে খ্রিস্টধর্মকে ঈসা (আ.) এর নামে বলা হয়, তবে ঈসা (আ.) যা বলেছেন বর্তমানে খ্রিস্টধর্মে তার তেমন কিছুই বিদ্যমান নেই। ঈসা (আ.) বলেছেন, ‘নামায পড়তে হবে, রোযা রাখতে হবে, বিশ্বাস ঠিক রাখতে হবে। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ডাকা যাবে না, সৎ থাকতে হবে। শরীআহ পালন করতে হবে, ইত্যাদি অনেক কিছুই তিনি বলেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, সংসার ছেড়ে দিতে হবে, বাপ-মা ছেড়ে দিতে হবে। টাকা-পয়সা থাকলে দান করে দিতে হবে। কোনো মেয়ে মানুষের দিকে তাকালে চোখ তুলে নিতে হবে। অনেক কিছুই বলেছেন।
পরবর্তীতে সাধু পল নামে
একব্যক্তি ঈসা (আ.) এর পরে আসলেন। তিনি বললেন, ‘না, এগুলোর কিছুই লাগবে না। তুমি বিশ্বাস করো, তোমার যদি বিশ্বাস ঠিক থাকে, তাহলে তুমি যত গোনাহ কর। কোনো সমস্যা নেই, ঈসা মসীহ তোমার গোনাহ নিয়ে চলে যাবেন।’5
তো বিশ্বাসটা কী? কোন বিশ্বাসে এই মুক্তিটা হবে, বিশ্বাস ঠিক করতে পারলেন না। এই বিশ্বাসের নামে, কর্ম না! বরং বিশ্বাস ঠিক আছে কি না। এই জন্য খ্রিস্টান ধর্মে বিগত দুই হাজার বছরে প্রায় দুই কোটি মানুষকে খুন করা হয়েছে। আগুনে পোড়ানো হয়েছে! খ্রিস্টধর্মের শাস্তি হল আগুনে পোড়াতে হবে। একে বলে ‘ইনকুইজিশন’।6 আগুনে পোড়ানো হয়েছে। কেন?!
জিজ্ঞাসা করা হয়েছে,
তুমি মানো? ‘হ্যাঁ, যিশুখ্রিস্টকে মানি’। কী মানো? ‘তিনের এক’ মানি। তিনের এক কেমন? এ রকম যদি কোনো এক জায়গায় একটু ভুল হয়েছে। তাহলে ধরে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ রকম অনেক ঘটনা আছে। আপনারা ইন্টারনেটে উইকিপিডিয়া, এনকার্টা অথবা যে কোনো এনসাইক্লোপিডিয়ায়। ইনকুইজিশন, ক্রিশ্চিয়ানাইজেশন, রিলিজিয়াস সাবমিশন, ডেমোলিশ দেম।এগুলো লিখে সার্চ দিলে অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।
ইনকুইজিশনের দৃষ্টান্ত:
জোয়ান অফ আর্কের ঘটনা আপনাদের জানা আছে কি না! ফ্রান্সের একজন কিশোরী মেয়ে। ইংল্যান্ডের সাথে ফ্রান্সের যখন যুদ্ধ হয়। তখন ফ্রেন্স বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল এই মেয়েটা। ফ্রেন্স বাহিনী হেরে যাচ্ছিল, ওই মেয়েটা নেতৃত্ব দিয়ে ফ্রেন্সদেরকে অনেকটা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে বৃটিশ বাহিনীর কাছে সে ধরা পড়ে। জেলে দেওয়া হয়। জেলে মেয়েটা পুরুষের পোশাক পরে, প্যান্ট পরে। জেল থেকে পাদরিদের কাছে খবরটা চলে গেল।
পাদরিরা এসে তার বিচারকার্য শুরু করলেন। পাদরিরা প্রশ্ন করল, ‘তুমি কেন প্যান্ট পরেছ?’ মেয়েটা বলল, ‘কী করব! আমরা যদি মেয়েলি পোশাক পরে থাকি, তো আমাদের উপরে নির্যাতন হয়। প্যান্ট পরলে সহজে জেলাররা ও পুলিশরা আমাদের উপর জুলুম করতে পারে না। এজন্য এভাবে নিজেকে রক্ষার চেষ্টায় এটা করি।’ এভাবে অনেক কিছু বলল মেয়েটা।
চলবে ইনশাআল্লাহ
২য় অংশঃ
