অমূল্য প্রেসক্রিপশন.....
رَبِّ اِنِّيْ لِمَاۤ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ
“ হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই করবে আমি তো তারই ভিখারী। ”
( Al-Qasas 28: Verse 24)
গুনাহের কারণে লজ্জা দেওয়া..
এক হাদীসে রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন,
“ যদি কেউ তার ভাইকে এমন গোনাহের উপর লজ্জা দেয়, যে গোনাহ থেকে সে তওবা করেছে, তাহলে ঐ ব্যক্তি ততোক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত সে নিজে ঐ গোনাহে লিপ্ত না হবে। ”
যদি কারো থেকে কোনো গোনাহ হয়ে যায় এবং সে তা থেকে তওবা করে নেয়, আর তুমি তাকে বার বার ঐ গোনাহের কারণে লজ্জা দিলে যে তুমি তো সেই লোক, যে অমুক কাজ করেছিলে। আল্লাহর কাছে এমন কাজ খুবই অপছন্দনীয়। আল্লাহ বলেন, আমি তার ঐ গোনাহের উপর পর্দা দিয়ে দিয়েছি। তা ক্ষমা করে দিয়েছি। তার আমলনামা থেকে তা মুছে দিয়েছি। এখন তুমি কে যে, এই গোনাহের উপর প্রশ্ন তুলছো এবং তাকে এ বিষয়ে লজ্জা দিচ্ছো। তুমি যদি তাকে এ বিষয়ে লজ্জা দাও, মনে রেখো তোমাকে আমি এই গোনাহে লিপ্ত করবো। এ জন্যে কোনো মুসলমানের দোষ অন্বেষণ করা, তা বর্ণনা করা বা প্রচার করা অনেক বড়ো কঠিন গোনাহ। আল্লাহ তোমাকে এই দুনিয়াতে দারোগা বানিয়ে পাঠাননি যে, তুমি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে। তোমাকে তো তিনি বান্দা বানিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁর বন্দেগী করার জন্যে।
[ ইসলাম ও আমাদের জীবন খন্ড ৪;
মূল : মুফতি ত্বাকী উসমানী হাফি. ]
আজকের উপলব্ধি :
দুনিয়াবি বিষয়ে দুআ করলে আল্লাহ কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা সরাসরি দিতেও পারেন, কাঙ্ক্ষিত জিনিস যদি অকল্যানকর হয় তখন আবার সরাসরি না দিয়ে অন্য কোন না চাওয়া জিনিস কল্যানজনক করে দিয়ে দেন, আবার কাঙ্ক্ষিত জিনিস না দিয়ে একটি বিপদ থেকে বাঁচিয়েও দিতে পারেন। আবার এমনও হতে পারে দুনিয়ায় কিছু না দিয়ে আখিরাতে আল্লাহ উক্ত দুআর পুরস্কার স্বরুপ বড় ও কঠিন বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারেন, আবার সম্মানও বুলন্দ করে দিতে পারেন।
কিন্তু দ্বীন নিয়ে কোন দুআ ইখলাসের সহিত করতে পারলে আল্লাহ উক্ত দুআ কবুল করবেনই। কারণ, কেউ যদি দুআ করে যে, “ হে আল্লাহ.. আমাকে আপনি দ্বীনের উপর অটল রাখুন। ” “ হে আল্লাহ আমাকে গুনাহ থেতে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন।” তখন এই দুআ কবুল হবেই ইনশাআল্লাহ.. কারণ এই চাওয়াতে অকল্যানজনক কিছুই নেই।
হ্যা গুনাহের তওফিক চাওয়ার পরেও ব্যক্তি যদি গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায় তার মানে এই নয় যে, তাঁর দুআ কবুল হয়নি। বরং, বুজুর্গানে দ্বীনের মতে ঐ দুআর কারণে সে আবার ঐ গুনাহ থেকে তওবা করারও তওফিক লাভ করবেন। কারণ, এই দুআ কবুল হবেই ইনশাআল্লাহ।
সগীরা গোনাহ নাকি কবীরা গোনাহ?
হযরত থানভী (রহঃ) ইরশাদ করেন, সগীরা ও কবীরা গোনাহের দৃষ্টান্ত হল এমন যে, একটি আগুনের ছোট স্ফুলিঙ্গ। আর অপরটি আগুনের বড় কুগুলি। আপনারা কি কখনও কাউকে দেখেছেন যে, সে আগুনের ছোট একটি স্ফুলিঙ্গ বাক্সে রেখে দেয়! কোন বিবেকবান ব্যক্তিই এ কাজ করবে না। কারণ সে ক্ষুদ্র আগুনের টুকরোটি একটু পরেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রূপ ধারণ করবে এবং বাক্সের সবকিছু জ্বালিয়ে ভস্মিভূত করে দিবে এবং সে বাক্সকেও জ্বালিয়ে দিবে। এমনও হতে পারে যে, পুরো ঘরকে জ্বালিয়ে ফেলবে।
ঠিক গোনাহের দৃষ্টান্তও এমন যে, সেটি ছোট হোক আর বড় হোক, তা আগুনের একটি স্ফুলিঙ্গ। যদি আপনি নিজ ইচ্ছা একটি গোনাহও করেন, হতে পারে এ একটি গোনাহই আপনার পুরো জীবনের পুঁজিকে বিনষ্ট করে দিবে। তাই এ চিন্তা করতে যাবেন না যে এটি ছোট গোনাহ না কি বড় গোনাহ? বরং এ চিন্তা করুন যে, এটি গোনাহ নাকি গোনাহ নয়? জায়েয কি জায়েয নয়? আল্লাহ তা'আলা এতে নিষেধ করেছেন কি না? আর যখন জানতে পারবেন যে, আল্লাহতা'আলা এ কাজ থেকে বারণ করেছেন, তখন আল্লাহর সামনে জবাবদিহীর কথা স্মরণ করে অনুধাবন করুন যে, আমি এ গোনাহ করে আল্লাহর সামনে চেহারা দেখাবো কেমন করে?
[ মূল : মুফতি ত্বাকী উসমানী হাফি. ]
ব্যভিচার : যে রোগে সয়লাব এ সমাজ..
এক সাহাবি রাসুল ﷺ এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? রাসুল ﷺ বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। সাহাবি জানতে চাইলেন, এর কোন পাপ? রাসুল ﷺ বললেন, সন্তানকে এই ভয়ে মেরে ফেলা যে, সে খাবে পরবে। সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, এরপর? রাসুল ﷺ বললেন-
“ নিজের প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।” [বোখারি)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, যদি কেউ বিবাহিত নারীর সাথে ব্যভিচার করে তাহলে আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের দিন ব্যভিচারকারিণীর স্বামীকে ব্যভিচারকারীর সৎকর্মের ওপর এই অধিকার দেবেন, সে যা চায় তাই নিতে পারবে।
একথা পরিষ্কার, ওই দিনের ভয়াবহতা আর পেরেশানির কারণে অল্পপুণ্যে কেউ সন্তুষ্ট হবে না। সামান্য সময়ের স্বাদের জন্য সারাজীবনের অর্জন সৎকর্ম অন্যের ঝুলিতে তুলে দেয়া কোন ধরনের বুদ্ধিমানের কাজ?
মূল : মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দি
হাফেয ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, দশটি বস্তু ফলহীন, যা কোন কাজে লাগে না।
১. ঐ ইলম, যে মোতাবেক আমল করা হয় না।
২. ঐ আমল, যার মধ্যে ইখলাছ নেই।
৩. ঐ মাল, যা (আল্লাহর পথে) খরচ করা হয় না।
৪. ঐ অন্তর, যা আল্লাহর ভালবাসা হতে খালি।
৫. ঐ দেহ, যা আল্লাহর আনুগত্য হতে মুক্ত।
৬. ঐ ভালবাসা, যা তার প্রেমাস্পদ আল্লাহর হুকুম মানতে আগ্রহী নয়।
৭. ঐ সময়, যা ত্রুটি সংশোধন ও নেকী অর্জন হতে শূন্য।
৮. ঐ চিন্তাধারা, যা অনুপকারী কাজে ব্যাপৃত থাকে।
৯. ঐ খিদমত, যা আল্লাহর নিকটবর্তী করে না বা দুনিয়াতেও কোন কল্যাণ বয়ে আনে না।
১০. ভয় করা ঐ বস্তুকে বা আকাংখা করা ঐ বস্তুর নিকটে, যে নিজে আল্লাহর হাতের মুঠির মধ্যে বন্দী।
(আল-ফাওয়ায়েদ, পৃঃ ১/১৭২)।
