প্রায়শই আজকাল খবরের কাগজে ও নিউজে আসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুইসাইডের ঘটনা।

 


এখানে আমরা কেইস বাই কেইস কোন আলোচনা না করে, যেহেতু সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন বিষয়াদি থাকে। ফলস্বরূপ, সেগুলো স্কিপ করে আমরা সমস্যার মূলনীতিগুলো উল্লেখ করছি —


১) সুইসাইডের সর্বপ্রথম মেজর কারণটা হয় জীবন সম্পর্কে বাস্তবিক ও সফলতার প্রকৃত সংজ্ঞা সম্পর্কে জ্ঞাণ ও উপলব্ধির অভাব। 

২) দ্বিতীয়ত, মানুষের জন্যে যে নির্দিষ্ট জীবনবিধানের মাঝে সার্বিক সমস্ত কল্যাণ রয়েছে যা মানুষের দুনিয়া ও পরকাল উভয়ের জন্যে উপকারী সে ব্যাপারে জ্ঞাণ ও উপলব্ধির অভাব। 

৩) শিক্ষার্থীদের জন্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার ভাবনা ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কারণ থাকে যার ফলে সে জীবনের অর্থ উপলব্ধি করতে পারেনা। এক্সাম দিতে না পারা/অন্যকিছু নিজের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে যায়। যদিও এটা সবার বেলায় প্রযোজ্য না হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই এটা দেখা যায়। 

৪) সার্বক্ষণিক ভালোবাসার অভাব। 

৫) নিজের খেয়াল-খুশিকে ইলাহ বানিয়ে ফেলাও একটা কারণ।


পয়েন্টভিত্তিক এবার সমাধানে আসা যাক —


১) প্রথম সমস্যার সমাধানের জন্যে দুইটি ভিডিওর আলোচনা দেখা অত্যন্ত জরুরি। ভিডিও দুইটির লিংক: 

a) https://youtu.be/RIrY5-VfXt8

b) https://youtu.be/mxs6BvZ2LVQ

আশা করি ভিডিও দুইটি মনোযোগ দিয়ে দেখলে যে কেউ জীবনের বাস্তবতা বুঝতে ও সফলতার প্রকৃত সংজ্ঞা উপলব্ধি করতে পারবে খুব সহজেই। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বুঝার তৌফিক দিন, আমিন... 


২) এটা বুঝতে ও উপলব্ধি করতে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে রিসার্চ যে কেউ চাইলে করতে পারে। সহায়ক হিসেবে ড. জাকির নায়েক হাফিযাহুল্লাহর তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের আলোচনাগুলো ইউটিউবে সার্চ করেই শোনা যায়। আমি করোনার সময়ে সেগুলো সব দেখেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ। সংশয়বাদী যে কেউ চাইলেই আলোচনাগুলো থেকে উপকৃত হতে পারবে। প্রয়োজন শুধু নিজের অজ্ঞতাকে স্বীকার করে আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে সত্যের খোঁজ করা। 

৩) এই গুরুত্বপূর্ণ টপিকটার উপরেই আলহামদুলিল্লাহ আমাদের শ্রদ্ধেয় ডা. Amiruzzaman Muhammad Shamsul Arefin শক্তি ভাই কাজ করেছেন ও বই আনছেন: মুমিনের ক্যারিয়ার ভাবনা। বইটার উপরে একটি প্রতিযোগিতাও চলছে (জানতে ক্লিক করুন এখানে)। যে কেউ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উপহার হিসেবে বইটি পেতে পারেন। তবে বইটা অবশ্যই সংগ্রহ করার মতো কেননা এই বিষয়ে জ্ঞাণ না থাকা একজন মুমিন ও সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্যে দুঃখজনক ও চরম ক্ষতির কারণ। শত্রুকে না চিনলে তার বিরুদ্ধে মোকাবেলা করা অসম্ভব। ক্যারিয়ার ভাবনা মৌলিকভাবে নিন্দনীয় কিছু নয়। কিন্তু এই ভাবনা যদি হিতাহিতজ্ঞানশূন্য করে দেয় যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক হয় তখন সেটি বরবাদির কারণ হতে পারে। 

৪) আমরা ইনসান তথা মানুষ। আমাদের নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ দুটি হচ্ছে - যে প্রতিনিয়ত ভুলে যায় এবং যে প্রতিনিয়ত ভালোবাসা খুজে বেড়ায়। আমরা ভুলে যাই দেখেই আমাদের রিমাইন্ডারের প্রয়োজন হয়। আল্লাহ নিজেই কুরআনকে রিমাইন্ডার বলেছেন। কুরআনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন রিমাইন্ডার নেই। আর যে ভালোবাসা আমরা খুজে বেড়াই তা হচ্ছে আল্লাহর ভালোবাসা। যা আমাদের আত্মার চাহিদা তা তো আল্লাহর তরফ থেকে আসে। এই বিষয়টি বুঝতে প্রাসঙ্গিক একটি পোস্টের শুরুর অংশটুকু পড়তে হবে। ক্লিক করুন এই জায়গায়। সেখানে সার্বক্ষণিক ভালোবাসা অনুভব ও আল্লাহর সাথে বান্দার জুড়ে যাওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা এসেছে। এ ব্যাপারে "কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো" বইটি পড়া যেতে পারে। চমৎকার বই। এছাড়াও আল্লাহ সম্পর্কে যত দারুন সব বই আছে, যেমন - তিনিই আমার রব সিরিজ, তার পরিচয় এসব বইও পড়া যেতে পারে।  


৫) সূরা আল জাসিয়ার ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন —


اَفَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـهَهٗ هَوٰىهُ

তুমি কি লক্ষ্য করেছ তার প্রতি যে তার খেয়াল-খুশিকে ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? 


— এই খেয়াল খুশি যে কোন কিছু হতে পারে, যেমন - হারাম সম্পর্ক, ক্যারিয়ার ভাবনা, সামগ্রিকভাবে আল্লাহর অবাধ্যতাসমূহগুলোই আসলে নিজের খেয়াল-খুশি। কেননা আমরা তো গোলাম। আর আল্লাহ আমাদের মালিক, প্রভু। গোলাম কখনো মালিকের অবাধ্য হয়না। যে গোলাম অবাধ্য হয়/স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে তখন সে আর গোলাম থাকেনা, তার পরিচয় হয়ে যায় মালিক। আর আমরা যখনই আমাদের মালিক হতে যান নিজেদের ধ্বংসের জন্যে নিজেই দায়ী হবো।

 একই আয়াতের ২য় অংশে আল্লাহ বলছেন—


وَ اَضَلَّهُ اللّٰهُ عَلٰی عِلۡمٍ وَّ خَتَمَ عَلٰی سَمۡعِهٖ وَ قَلۡبِهٖ وَ جَعَلَ عَلٰی بَصَرِهٖ غِشٰوَۃً ؕ فَمَنۡ یَّهۡدِیۡهِ مِنۡۢ بَعۡدِ اللّٰهِ ؕ

আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে (যে নিজ খেয়াল-খুশিকে ইলাহ বানিয়েছে) পথভ্রষ্ট করেছেন আর তার কানে ও দিলে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখের উপর টেনে দিয়েছেন পর্দা। অতঃপর আল্লাহর পর আর কে (আছে যে) তাকে সঠিক পথ দেখাবে?


— ধার্মিক হওয়া আর হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়া যদিও এক বিষয় না কিন্তু যদি কেউ হিদায়াতপ্রাপ্তির পরেও, দ্বীন ইসলাম, আল্লাহ সম্পর্কে জানা ও মানার পরেও তার কদর না করে, তার মূল্যায়ণ না করে তবে পথভ্রষ্ট হতে/পূর্বের জাহেল অবস্থায় ফিরে যেতে বেশি সময় লাগেনা আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণতি নিশ্চিত বরবাদি। এই টপিকে আমরা দুই পর্বের লাইভ করেছি। দেখতে পারেন ইনশাআল্লাহ—

পর্ব:১- https://youtu.be/VBECVnagQFA

পর্ব:২- https://youtu.be/PjaHv5J0_uM

আয়াতের একদম শেষে আল্লাহ বলছেন —

 اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ 

এরপরও কি তোমরা শিক্ষাগ্রহণ করবে না? 


— রবের দিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তন ও তাতে অটল থাকতে কেন আমাদের উদাসীনতা? 


এই পোস্ট কী আমার ভাবনায় মেরুকরণ সৃষ্টি করবে নাকি নিছক একটি পোস্ট পর্যন্তই রয়ে যাবে যা শুধু স্ক্রিন টাইম বাড়ানো ব্যতীত সত্যিকারের কোন উপকার করলোনা? 


#ProblemIslamicSolution #RealityOfLife #IslamicSuccess #LoveOfAllah #TadabbureQuran #ComeBackToAllah #FakeILAH 

Post a Comment

Previous Post Next Post