সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কি আমার বিরতি নেওয়া উচিত?
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব—পজিটিভ ও নেগেটিভ—উভয়দিক থেকেই অনেক ব্যাপক। ক্যারিয়ার, ইসলামিক রিমাইন্ডার, উপকারী আর্টিকেল, কমিউনিকেইশন, মার্কেটিং সহ অগণিত কল্যাণে ভরপুর সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এগুলো হচ্ছে টোটাল স্পেকট্রামের একটা দিক মাত্র। সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাডিক্টেড হয়ে গেলে রাতে আর পুরো ঘুমানো যায় না। অধিকাংশ মানুষের জন্য একটানা, গভীর ঘুম ও শান্তিতে রাতযাপন এখন একটা স্বপ্নমাত্র। আল্লাহর সাথে একান্তে সময় কাটানোর সক্ষমতাও কমে গেছে বহুগুণে, যুবক-যুবতীরা চাইলেও তাদের সৃষ্টিকর্তার সাথে আর একান্তে সময় কাটাতে পারছে না। এখন আমরা সুযোগ পেলেই ফোন হাতে নেই। সবচেয়ে বাজে ব্যাপারটি হলো, অন্য কারো সাথে বসে মুখোমুখি কথা বলার সময়ও ফোন হাতে নিয়ে অনবরত টেপাটেপি চলে।
.
এখন নিজেকে নিয়ে ভাবার, আল্লাহকে নিয়ে গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ আর হয়ে ওঠে না। কোনোকিছুতে গভীর মনোযোগ দেওয়া, চিন্তাভাবনা করা—এগুলোর শক্তি কমে গেছে। ব্রেইন শুধু আউটওয়ার্ডলি চিন্তাভাবনায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে দশ থেকে পনেরো বছরের মধ্যেই এই মানুষেরা হারিয়ে ফেলছে আল্লাহর সাথে তাদের একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ।
.
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে যতো বেশি অ্যাক্টিভ, তার ততো লোনলি, ডিপ্রেসড, ফ্রাস্টেইটেড এবং স্যাডিস্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখুন, সোশ্যাল মিডিয়া কতোজনকে অসামাজিক বানিয়ে ফেলেছে, সত্যিকারের সামাজিকতা রক্ষা করতে তারা এখন অক্ষম হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের অবস্থা সত্যিই খুব করুণ। কিন্তু কেন? কেন এমনটা হলো বা হচ্ছে? দীর্ঘ সময় ধরে মাত্রাতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে আপনার ব্রেইন এখন এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, যা শুধু শর্ট কমেন্টস-LOL-থাম্বসআপ-লাইক-শেয়ার-হ্যাশট্যাগ স্রেফ এইসব বিষয়ই ডিল করতে পারছে।
.
সোশ্যাল মিডিয়ার আরেকটা নেগেটিভ ইফেক্ট হলো, এটা আপনার ব্রেইনকে ইনফ্যান্টালাইজ করে ফেলে, মানে আপনার ব্রেইনের হালত বাচ্চাদের মতো বানিয়ে ফেলে। খেয়াল করলে দেখবেন, শিশুরা আলোর ঝলকানি ও গুণগুণ শব্দ খুব পছন্দ করে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্রেইনকে এই দুইটা বিষয় পছন্দ করার জন্য ট্রেইনআপ করে, হয়তো তারা একটু সফিস্টিকেইটেড ওয়েতে এটাকে নোটিফিকেইশন বলে।
.
সোশ্যাল মিডিয়া একেবারে নিরীহ একটা বিষয়, এর কোনো ক্ষতি নেই, সব খালি ভালো আর ভালো—এই আর্গুমেন্ট আজকাল তামাদি হয়ে গেছে। আজ আমরা নিজেদের ও নিজের সন্তানদের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার যে মন্দ প্রভাব দেখতে পাচ্ছি, তার জন্য আমাদের সামনে স্রেফ একটিমাত্র পথ খোলা আছে আর তা হচ্ছে সময় নিয়ে বসে চিন্তা করা আমি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে ঠিক কী পরিমাণ ফায়দা পাচ্ছি এবং ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতির শিকার হচ্ছি। এখানে থেকে আমার দ্বারা কতো বেশি গুনাহ হচ্ছে এবং কতোখানি সওয়াব আমি এখান থেকে কামাতে পারছি। এই সবকিছু হিসেব-নিকেশ করুন এবং এরপর নিজেই সিদ্বান্ত নিন। আমরা যদি নিজেদের সাথে সৎ হই, তাহলে হয়তো বুঝতে পারবো যে সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে স্রেফ আমাদের বিনোদনের একটা উৎস ও রিয়েল লাইফের স্ট্রাগল থেকে পালানোর একটা চোরাপথ এবং এগুলোর চেয়ে আর কখনোই বেশি কিছু নয়।
.
এই মডার্ন সময়ে যতো ধরনের ফিতনা আছে, সোশ্যাল মিডিয়া তার মধ্যে অন্যতম। সবকিছুর মতো সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি মানা প্রয়োজন, আসলে আবশ্যক।
-
[ শাইখ আলি হাম্মুদার "Do I Need a Break From Social Media?" লেকচারের সংক্ষিপ্ত ভাবানুবাদ। প্রথম পর্ব ] - হাম্মাদ ওসামা
