ভালোবাসা দিবস ইসলাম কি বলে? (শেষ অংশ)

 


ভালোবাসা দিবস ইসলাম কি বলে?

    (শেষ অংশ) 


কিন্তু পাদরিরা মানল না!

তারা বলল, ‘তুমি শরীআহ লঙ্ঘন করেছ, বাইবেলের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছ। কাজেই তোমার বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে। তোমার শাস্তি হবে।’ সেটা কী? আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে। তাকে গাছের সাথে বেঁধে নিচে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হল। পোড়ানোর পরে সেই ছাইগুলো আবার পুড়িয়ে ফেলা হল!!7 এটার নাম ইনকুইজিশন।


তো বিশ্বাসটা কী? এটা এত দুর্বোধ্য হয়ে যায় যে, বিশ্বাসের নামে তারা প্রায় দুই কোটি মানুষ হত্যা করেছে, ঠাণ্ড মাথায়। এর একটা বড় অংশ আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে।


খ্রিস্টধর্মে যেভাবে ভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের প্রবেশ ঘটে:

বিশ্বাসকে কঠিন করার পাশাপাশি তারা কর্মকে সহজ করার চেষ্টা করেছেন, যাতে বেশি মানুষ খ্রিস্টান হয়। এজন্য যুগেযুগে যে দেশে গিয়েছেন। সেই দেশের বিষয়গুলোকে তারা ধর্মের ভেতরে ঢুকানোর চেষ্টা করেছেন। যেমন, আপনারা জানেন, বড়দিন, ২৫ ডিসেম্বর, খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ‘বড়দিন’ বলা হয়। কেন বলা হয়? এটা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে বলা হয়।


অথচ খ্রিস্টান সকল গবেষক শতভাগ একমত যে ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন নয়। পোপ ফ্রান্সিসের আগে ‘বেনিডিক্ট ১৬’ (Benedict XVI) নামে একজন পোপ ছিলেন। তিনি পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পোপরা সাধারণত পদত্যাগ করেন না। ওই পোপের একটা বই((বইটির নাম: ”Jesus of Nazareth: The Infence Narratives”)) আছে, যিশুখ্রিস্টের জন্ম বিষয়ে। সেখানেও তিনি লিখেছেন, ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন নয়।


তাহলে কেন

২৫ ডিসেম্বর উৎসবটা হল? এটার কারণ, এই একই ধরনের, বসন্ত বরণের মতোই। ২৫ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের শীতের শেষে গরমের শুরু, দিন ছোট হতে হতে এইবার থামল, বড় হবে। এইজন্য, প্রাচীন যুগ থেকে ইউরোপে রোমান প্যাগানেরা, গ্রিক প্যাগানেরা, শীতসংক্রান্তি পালন করতে।


খ্রিস্টান পাদরিরা দেখলেন, আমরা যদি এই দিনটাকে একটু আমাদের ধর্মীয় রূপ দিয়ে দিই। তাহলে ওরা সহজেই আমাদের সাথে মিশে যেতে পারবে। তারা বললেন, এই দিনটাই আমাদের বড়দিন। যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন। ওরা তো আগে থেকেই এটা করত। বাহ! এখন আরও সহজ হয়ে গেল। এটা আমি বানিয়ে বলছি না। আপনারা ইন্টারনেটে সার্চ করলে এটা পাবেন। বড়দিন, ক্রিসমাস ব্যাপারে সার্চ করলে পাবেন।8


প্যাগান উৎসব থেকে লুপারক্যালিয়া উৎসব, সেখান থেকে ভ্যালেন্টাইন উৎসবের সূচনা:

ঠিক তেমনই এই লুপারক্যালিয়া উৎসবটা বসন্তের শুরুতে প্রাচীন প্যাগান যুগে ছিল। পাদরিরা দেখলেন, এটাকে যদি একটা ধর্মীয় রূপ দিয়ে আমরা করে দিই। তাহলে ধর্মটা সহজ হয়, সহজেই ওরা আমাদের ধর্মে এসে যাবে। এইজন্য ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ নামে ১৪ ফেব্রুয়ারির এই দিবসের প্রচলন ঘটানো হল।


কিন্তু এই ভ্যালেন্টাইন কোন ভ্যালেন্টাইন, এটা দেখার জন্য আপনারা ইন্টারনেটে যাবেন, উইকিপিডিয়ায় যাবেন। দেখবেন, কোনো ঠিক নেই। এটা মূলত লুপারক্যালিয়া দিবসটাকে খ্রিস্টানাইজ্ড করা।9


লুপারক্যালিয়া মূলতই

একটা প্যাগান উৎসব, প্রকৃতি পূজার উৎসব। এটা পুরোটাই কুসংস্কার। প্রকৃতি পূজারিদের বিশ্বাস অনুযায়ী বসন্তের শুরুতে উৎসব করলে সারা বছর বসন্তের অনুভূতি বজায় থাকবে! বৈশাখের শুরুতে ‘এসো হে বৈশাখ’ বললে বৈশাখ শুভময় হবে! মূলত প্যাগান যুগের লোকেরা করত এই ধরনের বিশ্বাস। তারা প্রকৃতিকেই ‘বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করতে পারে’ বলে বিশ্বাস করত। এ বিশ্বাসের প্রভাব আধুনিক যুগেও বিভিন্ন সমাজে বিদ্যমান রয়েছে।


যেমন এখনো আমাদের দেশে কোনো কোনো মানুষ মনে করে। শনি গ্রহ, মঙ্গল গ্রহ, শুক্র গ্রহ বা যে কোনো গ্রহের জাতক হলে মানুষের উপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে! এই ধরনের শিরকি-কুফরি কুসংস্কার এখনো মুসলমানদের ভেতরে মাঝেমাঝে দেখা যায়। বিশেষ করে, ফেরিঘাটে যখন অষ্ট ধাতুর মাদুলি কিনতে মুসলমানদের দেখি। তখন মনে হয়, অনেক মুসলমান এখনো আগের মতো হিন্দু বিশ্বাসেই আছে।


যেটা বলছিলাম, তাহলে এই যে প্যাগান উৎসব, এটাকে খ্রিস্টানরা প্রথমে খ্রিস্টানাইজ করলেন। এরপরে এটাকে এখন কিছু মানুষ সেকুলারাইজ্ড করে। সকল ধর্মের মানুষের মাঝে কথিত ‘ভালোবাসা দিবস’ নামে প্রচার করছে, এটা আরেকটা অপরাধ।


প্রকৃত ভালোবাসা কোনটা?

তৃতীয় বিষয় হল, এই দিনে আমরা কোন ভালোবাসাকে প্রমোট করি? ভালোবাসা তো অনেক রকমের আছে। মাকে ভালোবাসা, বাবাকে ভালোবাসা, ছেলে-মেয়েকে ভালোবাসা, দেশকে ভালোবাসা, দরিদ্রদেরকে ভালোবাসা, আল্লাহকে ভালোবাসা। তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ভালোবাসা, ইত্যাদি অনেক রকমের ভালোবাসা আছে। সবই ভালোবাসা।


কিন্তু এই লুপারক্যালিয়া উৎসবে, বসন্ত বরণ উৎসবে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন দিবসে শুধুমাত্র নারী-পুরুষের জৈবিক ভালোবাসাকে প্রমোট করা হয়। আর এটা শুধু ইসলামের দৃষ্টিতে না, সকল ধর্মের দৃষ্টিতে মহাপাপ। পাপ কাকে বলে? ইসলামের দৃষ্টিতে পাপ ওই বিষয়, ওই কর্ম, ওই বিশ্বাস। যা ব্যক্তির, সমাজের অথবা মহাবিশ্বের ক্ষতি করে। এর বাইরে সাধারণত কোনো পাপ নেই। মদ পাপ, জুয়া পাপ, কারণ এগুলো ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর।


চলবে ইনশাআল্লাহ

বই: মিম্বারের আহ্বান-১

Rahmanblog

Hey there! My name is Abdur Rahman, I am a Professional Web Designer, Graphic Designer. I am Content Creator from Sylhet , Bangladesh. I love coding and editing, so I always try to create something new and interesting.

Post a Comment

Previous Post Next Post