ধরুন সাহাবিদের গালি দেওয়া এক ব্যক্তি মারা গেল। তার মৃত্যুর পর যদি সে সত্যিই জান্নাতে যায়, তাহলে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবে?
মানে একদিকে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো, আবু বকর বললেন, কীরে, আমি না জাহান্নামি? এখন তুই এখানে কী করস?
আরেকটু এগিয়ে গিয়ে দেখল ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বসে আছেন। তিনি গর্জে উঠে বললেন, আল্লাহর দুশমন, তুই সারাজীবন আমাদের গালাগালি করে এখন আমাদের এখানে কী করছিস?
যেদিকেই তাকায় সে, কোথাও দেখতে পায় উসমান ইবনু আফফান দাঁড়িয়ে আছেন; ঘাড় ঘুরিয়ে অন্যদিকে ফিরেই দেখে জুবাইর ইবনুল আওয়াম মিটিমিটি হাসছেন। চোখ নামিয়ে আরেকদিকে তাকিয়ে দেখে তালহা ইবনু উবাইদিল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হযরত আলি রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে কথা বলছেন।
আলি তাকে দেখেই ক্ষেপে গিয়ে বললেন, আমার নাম করে আমার বন্ধুদের গালি দিয়েছিস, এখন আবার আসছিস আমার সামনে? কত বড় স্পর্ধা তোর! দূর হ আমার চোখের সামনে থেকে!
অমনি অন্য সাহাবি এবং সিরিয়ায় অন্যায়ভাবে শহিদ হওয়া মজলুম মুসলিমগণ সমস্বরে বলে উঠলেন, খেদিয়ে দিন তাকে হে আল্লাহর রাসুলের চাচাতো ভাই, খেদিয়ে দিন তাকে!
লোকদের সমস্বরে ‘খেদিয়ে দিন, খেদিয়ে দিন’ শুনে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা উঁকি দিলেন ব্যাপার কী দেখার জন্য! তিনি দেখেন, দুনিয়ায় তাকে অবিরত নিন্দামন্দ করা ব্যক্তিকে জান্নাতবাসী ভর্ৎসনা করছেন। তিনি আবারও দেখলেন, আল্লাহর রাসুলের সাহাবিরা দুনিয়ায় যেমন এক ছিলেন, জান্নাতেও তারা পরস্পরের বন্ধু হয়ে আছেন।
কিন্তু কথা সেটা না, কথা হলো, এমন ব্যক্তি জান্নাতে গিয়ে করবেই-বা কী, যেখানের বাসিন্দা সবাই তার শত্রু—এমনকি আলি রাযিয়াল্লাহু আনহুও (তাহকিম মেনে নেওয়ার কারণে)! আল্লাহ তাআলা এমন প্রত্যেককে তার যথাযোগ্য স্থান দান করুন।
নোট : বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার এই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যু অবশ্যই তাৎপর্যবহ। আমরা আসলেই নিশ্চিত নই যে, ইহুদিদের সঙ্গে তার শত্রুতা-শত্রুতা খেলার বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য ছিল, না নিছকই এটি একটি রাজনৈতিক ছল! কারণ, যারা আল্লাহর রাসুলের সহচর জান্নাতি সাহাবিদের নামে ঘৃণা চর্চা করে, যারা নিজেদের শক্তি প্রয়োগ করে নির্বিচারে মুসলিমনিধন চালায়, তাদের ব্যাপারে আশাবাদী হতে আমাদের প্রচুর সংকোচ হয়।
উমর আলী আশরাফ
